হারানো মোবাইলের রহস্য
ময়মনসিংহের ছোট্ট এক গ্রামে থাকত রাহাত নামে এক যুবক। সারাদিন ফেসবুকে ভিডিও বানানো আর মানুষের নানা ঘটনা নিয়ে পোস্ট করাই ছিল তার শখ। গ্রামের সবাই তাকে চিনত “ভিডিও রাহাত” নামে।
একদিন রাতে পাশের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল রাহাত। হঠাৎ সে বুঝতে পারল তার দামি মোবাইল ফোনটি নেই। মোবাইলটাতে ছিল তার সব ভিডিও, ছবি আর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রাহাত খুব চিন্তায় পড়ে গেল।
সে দ্রুত বাজারে ফিরে গেল। চারদিকে খুঁজল, দোকানদারদের জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারল না। রাত তখন প্রায় ১১টা। বাজার ফাঁকা হয়ে গেছে, বাতাসে শুধু শোঁ শোঁ শব্দ।
হঠাৎ এক বৃদ্ধ লোক এসে বলল,
— “বাবা, কালো বটগাছটার পাশে খুঁজে দেখো।”
রাহাত একটু অবাক হলো। কারণ ওই বটগাছ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে অনেক রহস্যময় গল্প প্রচলিত ছিল। কেউ রাতে ওদিক দিয়ে যেত না।
তবুও সাহস করে সে সেখানে গেল। মোবাইলের টর্চ জ্বালাতেই দেখল, গাছের নিচে তার ফোনটা পড়ে আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো— ফোনে নতুন একটা ভিডিও রেকর্ড হয়েছে!
কাঁপা হাতে ভিডিওটা চালু করল রাহাত। ভিডিওতে দেখা গেল, এক অদ্ভুত ছায়ামূর্তি ফোনটা তুলে নিয়ে আবার গাছের নিচে রেখে দিচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ভিডিও শেষ হতেই রাহাতের ফোনে একটা নোটিফিকেশন আসল—
“সব হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না...”
ভয়ে রাহাত দ্রুত বাড়ি ফিরে গেল। পরদিন সে ভিডিওটা ফেসবুকে আপলোড করল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেল। লাখ লাখ মানুষ সেই রহস্যময় ছায়ামূর্তির গল্প জানতে চাইল।
কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো—
এরপর থেকে গ্রামের কেউ আর ওই বটগাছের পাশে রাতে যেতে সাহস করত না।






Comments
Post a Comment